বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসা অনেক প্রাচীন। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে শহরের অনেক মানুষই এখনো ভেষজ ওষুধে আস্থা রাখেন।
তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে — বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য কোনো আইন আছে কি?
আইনের মাধ্যমে ভেষজ ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ভেষজ চিকিৎসার ইতিহাস ও গুরুত্ব
ভেষজ চিকিৎসার উৎপত্তি হাজার বছর আগে।
বাংলাদেশের লোকজ চিকিৎসা, আয়ুর্বেদ ও ইউনানি পদ্ধতি এখনো জনপ্রিয়।
এটি শুধু রোগ নিরাময়েই নয়, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো প্রয়োজন।
Read More: Banglapedia – Herbal Medicine in Bangladesh
বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার আইনগত কাঠামো
বাংলাদেশ সরকার ভেষজ চিকিৎসা ও ওষুধ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে একাধিক আইন প্রণয়ন করেছে।
এই আইনের অধীনে DGDA (Directorate General of Drug Administration) ভেষজ ওষুধের নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে।
তাহলে, বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য কোনো আইন আছে কি?
হ্যাঁ, আছে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ভেষজ চিকিৎসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আইনসমূহ
১. Drugs Act 1940
এটি ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের মূল আইন।
এর আওতায় ভেষজ ওষুধকেও মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে।
২. Drugs (Control) Ordinance 1982
এই আইনে ওষুধের মূল্য, মান, এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে।
ভেষজ ওষুধ উৎপাদকদের DGDA অনুমোদন নিতে হয়।
৩. National Drug Policy 2016
এই নীতিতে ভেষজ ওষুধকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় ভেষজ উৎপাদকদের উৎসাহিত করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৪. Unani and Ayurvedic Practitioners Ordinance 1983
এই আইনে আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও হোমিও চিকিৎসকদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের বিধান আছে।
তাদের কার্যক্রম DGDA এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে।
Source: Ministry of Health and Family Welfare, Bangladesh
আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া
DGDA ভেষজ ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে:
- ভেষজ ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র নিবন্ধন করে
- ল্যাবরেটরিতে মান পরীক্ষা করা হয়
- Good Manufacturing Practice (GMP) অনুসারে উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়
- অবৈধ ওষুধ বা মিথ্যা দাবিতে বিক্রয় হলে তা নিষিদ্ধ করা হয়
Read More: DGDA – Herbal Medicine Regulation
আইন প্রয়োগে চ্যালেঞ্জ
যদিও বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য আইন আছে, কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
যেমন:
- গ্রামে অবৈধভাবে তৈরি ওষুধ বিক্রয়
- ভেষজ চিকিৎসকদের নিবন্ধনের অভাব
- জনগণের মধ্যে ভুয়া ওষুধ সম্পর্কে অজ্ঞতা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনা
বাংলাদেশ সরকার ভেষজ চিকিৎসাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
DGDA ভেষজ ওষুধের মান নির্ধারণে WHO-এর মানদণ্ড অনুসরণ করছে।
ভবিষ্যতে গবেষণাগার ও আধুনিক পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
Read More: WHO – Traditional Medicine Strategy
উপসংহার
সুতরাং, স্পষ্টভাবে বলা যায় যে বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য আইন আছে এবং তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে DGDA-এর তত্ত্বাবধানে।
তবে মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষার মাধ্যমে ভেষজ চিকিৎসাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
FAQs (প্রশ্নোত্তর)
১. বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসার জন্য কোনো আইন আছে কি?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে ভেষজ চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক আইন ও নীতিমালা রয়েছে, যেমন Drugs Act 1940 ও National Drug Policy 2016।
২. ভেষজ ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি কে দেয়?
DGDA (Directorate General of Drug Administration) অনুমতি প্রদান করে।
৩. ভেষজ চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হতে কোনো নিবন্ধন লাগে কি?
হ্যাঁ, Unani and Ayurvedic Practitioners Ordinance 1983 অনুযায়ী নিবন্ধন প্রয়োজন।
৪. DGDA কি নকল ভেষজ ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়?
হ্যাঁ, DGDA নিয়মিত তদারকি করে এবং অবৈধ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে।
৫. ভেষজ চিকিৎসা কি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত?
হ্যাঁ, ভেষজ চিকিৎসা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত এবং স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত।

