বাংলাদেশে ভেষজ ওষুধ বহু বছর ধরে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে সময়ের সঙ্গে এর চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে DGDA (Directorate General of Drug Administration)।
প্রশ্ন হলো, DGDA কিভাবে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে?
এই লেখায় আমরা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানব।
DGDA-এর পূর্ণরূপ ও কার্যক্রম
DGDA মানে Directorate General of Drug Administration।
এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি সংস্থা।
এ সংস্থার মূল কাজ হলো—
- ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করা
- ভেষজ, হোমিও এবং অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের অনুমোদন ও তদারকি করা
Source: Directorate General of Drug Administration – Official Website
ভেষজ ওষুধ কী এবং কেন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন
ভেষজ ওষুধ হলো উদ্ভিদজাত প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি চিকিৎসা উপকরণ।
এর অনেক উপকারিতা আছে, যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং সহজলভ্যতা।
তবে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ উৎপাদন বা মিথ্যা দাবিতে বিক্রি করলে এটি ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই DGDA কিভাবে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
DGDA কিভাবে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে
১. নিবন্ধন প্রক্রিয়া:
যে কোনো ভেষজ ওষুধ বাজারজাত করার আগে DGDA-র অনুমোদন নিতে হয়।
প্রতিটি কোম্পানিকে প্রমাণ দিতে হয় যে তাদের ওষুধ নিরাপদ এবং কার্যকর।
২. গুণগত মান যাচাই:
DGDA নিয়মিতভাবে উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করে।
তারা Good Manufacturing Practice (GMP) অনুসরণ করছে কি না তা যাচাই করে।
৩. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা:
ভেষজ ওষুধের রাসায়নিক উপাদান, বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়।
অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
৪. বাজার তদারকি:
DGDA বাজারে বিক্রিত ভেষজ ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরীক্ষা করে।
যদি কোনো অননুমোদিত বা নকল ওষুধ পাওয়া যায়, তা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
৫. আইন প্রয়োগ ও শাস্তি:
যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করে, DGDA তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়।
Read More: DGDA Herbal Medicine Registration Guidelines
ভেষজ ওষুধ নিবন্ধনের ধাপসমূহ
১. আবেদনপত্র জমা দিতে হয় DGDA-তে।
২. কাঁচামালের উৎস, প্রস্তুত প্রণালী ও উপাদান তালিকা জমা দিতে হয়।
৩. উৎপাদন স্থাপনার পরিদর্শন হয়।
৪. নমুনা পরীক্ষা শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যাতে ভোক্তারা নিরাপদ ওষুধ পান।
আইনি কাঠামো ও বিধান
বাংলাদেশে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামো হলো:
- Drugs Act 1940
- Drugs (Control) Ordinance 1982
- National Drug Policy 2016
এইসব আইনে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান DGDA অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন বা বিক্রয় করতে পারবে না।
Source: National Drug Policy 2016 – Ministry of Health
DGDA-এর চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা
যদিও DGDA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
- পর্যাপ্ত মানবসম্পদ ও ল্যাবরেটরির অভাব
- গ্রামীণ এলাকায় ভেষজ ওষুধের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদন
- জনগণের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
DGDA বর্তমানে ভেষজ ওষুধের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
স্থানীয় উৎপাদকদের উৎসাহ দিতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করা হচ্ছে।
Read More: WHO Traditional Medicine Strategy
উপসংহার
বাংলাদেশে ভেষজ ওষুধের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, তবে এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাই DGDA কিভাবে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে তা জানা প্রতিটি ভোক্তার জন্য প্রয়োজন।
DGDA-এর নিয়ম ও নীতি মেনে চললেই নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ভেষজ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
FAQs (প্রশ্নোত্তর)
১. DGDA কীভাবে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে?
DGDA ওষুধ নিবন্ধন, উৎপাদন পরিদর্শন, ল্যাব পরীক্ষা ও বাজার তদারকির মাধ্যমে ভেষজ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ভেষজ ওষুধের অনুমোদন কীভাবে পাওয়া যায়?
DGDA-তে আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নমুনা জমা দিতে হয়, পরীক্ষার পর অনুমোদন দেওয়া হয়।
৩. DGDA কি নকল ভেষজ ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়?
হ্যাঁ, DGDA নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং অবৈধ বা নকল পণ্য বাজেয়াপ্ত করে।
৪. ভেষজ ওষুধ বিক্রির জন্য কি লাইসেন্স লাগে?
হ্যাঁ, DGDA অনুমোদিত লাইসেন্স ছাড়া ভেষজ ওষুধ বিক্রি করা অবৈধ।
৫. DGDA-এর কাজের তদারকি কে করে?
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় DGDA-এর কার্যক্রম তদারকি করে।

