সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব ও ক্ষতি – সত্য জানা জরুরি

WhatsApp
Telegram
Facebook
Twitter
LinkedIn
সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব ও ক্ষতি – সত্য জানা জরুরি

বাংলাদেশের গ্রাম ও শহর মিলিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ জীবনের নানা সমস্যায় দ্রুত সহজ সমাধান খোঁজেন। এমন সময়ে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয় বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা থেকে এবং আশ্রয় নেয় তান্ত্রিক বা কবিরাজদের কাছে। এখানে মূল প্রশ্ন হলো — সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব ও ক্ষতি কী এবং এটি কতটুকু সমাজ-সাধারণের জন্য উদ্বেগের বিষয়?

তান্ত্রিক ও কবিরাজ কারা?

“কবিরাজ” সাধারণত গ্রামের এমন একজনকে বলা হয়, যিনি হেরবাল বা স্থানীয় প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন। “তান্ত্রিক” শব্দটি এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যিনি মন্ত্র, তন্ত্র, জিন-টোনা ও আধ্যাত্মিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের দাবি করেন। এই দুই ধরনের সেবা বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সমাজে প্রভাব

প্রথমত, সামাজিক বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিসরে এই ধরনের সেবাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার সমস্যা হলে আগে ভাবছে, “আমাদের বাড়িতে হয়তো টোনা লেগেছে” অথবা “জিন আছে”- এই মনোভাব থেকে তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বা সামাজিক সুশাসনেও প্রভাব পড়ছে—যেখানে মানুষ সরকার গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দ্রুত সহজ পথ খোঁজে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা গেছে, লিফলেট বা পোস্টারের মাধ্যমে “সব সমস্যার সমাধান” দাবিতে প্রচারণা চলছে, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। Prothomalo+1

ক্ষতিকর দিকসমূহ

এক বিরূপ দিক হলো — রোগ-বিজ্ঞান অনুসারে নির্ধারিত চিকিৎসা না নিয়ে শুধুই তান্ত্রিক বা কবিরাজর উপায়ে নির্ভর করলে রোগ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না পেয়ে ঘাটতি হয়। এছাড়া প্রতারণার আশঙ্কাও রয়েছে—লিফলেটে “জিনে থাপ্পড় দিলে কানে ব্যথা হয়”-এর মতো অক্ষরপূর্ণ দাবি থাকে। Prothomalo ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সমস্যা রয়েছে—যখন মন্ত্র-তন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়।

সচেতন হওয়ার উপায়

প্রথমত, দেখা প্রয়োজন—যদি কোনো সেবা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে না হয় বা অনুমোদিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। দ্বিতীয়ত, পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা বাড়াতে হবে যাতে “সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব ও ক্ষতি” বিষয়টি ওপেন হয়। তৃতীয়ত, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রচার-প্রচারণা ও শিক্ষা কর্মসূচি চালাতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সচেতন হয়।

উপসংহার

“সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব ও ক্ষতি” বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দায়িত্ব হলো তথ্যভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিশ্বাস ও বিজ্ঞানকে সঙ্গী করে চলা। যদি কোনো সমস্যায় পড়ি, তাহলে প্রথমে বৈধ চিকিৎসার পথ নেওয়া এবং প্রয়োজনে আধ্যাত্মিক বা বিশ্বাসভিত্তিক সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রে খোলামেলা ও সচেতন হওয়া উত্তম।

Frequently Asked Questions (FAQs)

Q1: সমাজে তান্ত্রিক কবিরাজের প্রভাব কি শুধুই নেতিবাচক?
A1: সব সময় নয় — কিছু ক্ষেত্রে লোক বিশ্বাস ও মানসিক শান্তির জন্য এই ধরনের সেবা অনুসরণ করে থাকতে পারে। কিন্তু নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প হয়ে উঠলে নেতিবাচক দিক সামনে আসে।

Q2: আমি যদি তান্ত্রিক কবিরাজের কাছে যাই, তাহলে কী ধরণের খতবা থাকতে পারে?
A2: সম্ভাব্য খতবাগুলো হলো — অতিরিক্ত খরচ, রোগনিদান বিলম্ব হওয়া, প্রতারণার আশঙ্কা, ধর্মীয় বা সামাজিক বিভ্রান্তি।

Q3: সরকার-আইন কি এই ধরণের মিথ্যা প্রচার বা চিকিৎসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে?
A3: হ্যাঁ, সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, রাজধানীর অনেক এলাকায় অনুমতি ছাড়া লিফলেট পোস্টার লাগানো এবং প্রচারণা করা হয়েছে যা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা সৃষ্টি করছে। Prothomalo

Read Previous Or Next Post

Scroll to Top