বাংলাদেশের গ্রাম ও শহর মিলিয়ে নানা মানুষ কখনো বা প্রায়ই এমন সমস্যার সম্মুখীন হয় যেখানে সাধারণ চিকিৎসা সমাধান দিতে পারছে না। তখন অনেকেই হয়ে উঠেন এমন একজনের খোঁজে যিনি বলছেন — “আমি সেই তান্ত্রিক বা কবিরাজ, তোমার সমস্যা খুঁজে বের করব, জিন নিয়ন্ত্রণ করব, টোনা-ঝাড়ফুঁক করব।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — এই ধরনের চিকিৎসা কি কার্যকর? বিশেষ করে কি তান্ত্রিক কবিরাজের চিকিৎসা কি ক্ষতিকর? কি পার্শ্বপ্রভাব থাকতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে এখানে বিশ্লেষণ করা হলো।
তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচিতি
“তান্ত্রিক” সাধারণত এমন একজনকে指 করে যিনি মন্ত্র, যাদু বা আধ্যাত্মিক শক্তির দাবিতে চিকিৎসা বা সেবা দেন। “কবিরাজ” শব্দটি বাংলাদেশের গ্রামীণ চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত, যিনি দাও বা হেরবাল ও আধ্যাত্মিক উপাদান ব্যবহার করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তারা জিন-টোনা, ঝাড়ফুঁক, গহরী সাপ বা অন্যান্য অদ্ভুত উপাদান দিয়ে চিকিৎসার দাবিতে প্রচার করেন। উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর এক এলাকায় লিফলেটে লেখা ছিল “জিনে থাপ্পড় দিলে কানে ব্যথা হয় — মোমবাতি ও দুধ দিয়ে কাজ হবে”। Prothomalo
তান্ত্রিক-কবিরাজ চিকিৎসার সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক
বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার অভাবে ঝুঁকি: অনেক রোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত চিকিৎসা না নিয়ে তান্ত্রিক বা কবিরাজের ওঝা-রুকইয়াহ-ঝাড়ফুঁকের দ্বারস্থ হলে রোগ সময়মতো সঠিকভাবে সনাক্ত বা চিকিৎসা হয় না। এতে রোগ জটিল বা বেড়ে যেতে পারে।
প্রতারনা ও অতিরিক্ত খরচি: অনেক ক্ষেত্রে লিফলেট বা মোবাইল বিজ্ঞাপনে এসব তান্ত্রিক-কবিরাজ অদ্ভুত দাবিতে চিকিৎসার নামে টাকা নিচ্ছেন। Prothomalo+1
ধর্মীয় ও নৈতিক উদ্বেগ: ইসলামী দৃষ্টিকোণে যদি কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি হয় যা মন্ত্র, জাদু বা কুফুরি কালামের ওপর নির্ভর করে, তা অনেক সময় বিবেচিত হয় অনৈতিক বা অবৈধ হিসেবে। Facebook+1
সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: রোগী বা পরিবার হয়তো চিকিৎসার পরিবর্তে বিশ্বাস নির্ভর হয়ে পড়ছে, এতে মানসিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হতে পারে।
কখন বলা যেতে পারে “ক্ষতিকর”?
- যদি রোগের লक्षण দীর্ঘদিন থাকে ও সঠিক চিকিৎসা না হয়
- যদি শুধু মন্ত্র, ওঝা বা জাদুর ওপর নির্ভর করা হয় এবং রোগবিজ্ঞান থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়
- যদি অত্যাধিক খরচ বা প্রতারণার লোভ থাকে
- যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনুমোদিত না হয়
নিরাপদ বিকল্প ও করণীয়
- রোগ হলে প্রথমে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে হবে
- যদি আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় সেবা নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- যেকেসময় তান্ত্রিক-কবিরাজ দেখবেন, যাচাই-বাছাই করুন — পূর্ব অভিজ্ঞতা, অনুমোদন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ইত্যাদি। Quranic Treatment BD
- পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যাতে প্রতারণার শিকার কম হয়
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ
ইসলামে রোগ নিরাময়ে বিশ্বাস রয়েছে — যেমন World Health Organization (WHO) সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। যদি কোনো পদ্ধতি চিকিৎসাসম্পর্কিত নয় বা কুফুরি মন্ত্রের ওপর নির্ভর করে, তা অসংগত হতে পারে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা গ্রহণ করেনি এবং যার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তা অবশ্যই অবৈধ।” Prothomalo চিকিৎসা ও বিশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
উপসংহার
তান্ত্রিক কবিরাজের চিকিৎসা কি ক্ষতিকর? উত্তর সহজ নয় — কখনও কখনও হতে পারে ক্ষতিকর, বিশেষ করে যখন তা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বিকল্প হয়ে ওঠে বা প্রতারণার হাতিয়ার হয়। আপনাদের দায়িত্ব হলো সচেতনতা থাকা — রোগ হলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেয়া, বিশ্বাস ও চিকিৎসাকে একসাথে সমর্থন করা। পরিবারের প্রতি আহ্বান — কেউ যদি এমন পদ্ধতির দিকে যেতে চায়, তবে আগে ভালোভাবে যাচাই করুন।
Frequently Asked Questions (FAQs)
Q1: তান্ত্রিক-কবিরাজ দেখতে গিয়েও কি বৈধ?
A1: আইনগতভাবে এসব সেবা সবসময় বৈধ নয়— যদি তারা অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেয়, প্রচারণা করে বা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সমস্যা হতে পারে।
Q2: আমি সাহস পাচ্ছি না হাসপাতালে যেতে, তাহলে তান্ত্রিক-কবিরাজ দেখতে যাওয়া কি তার বিকল্প?
A2: গুরুতর বা নির্দিষ্ট রোগ অবস্থায় শুধুমাত্র তান্ত্রিক-কবিরাজের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। প্রথমে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নেয়া উচিত, তারপর যদি চান তান্ত্রিক সেবাও বিবেচনা করতে পারেন।
Q3: ঝাড়ফুঁক বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসা কি কখনও সাহায্য করে না?
A3: কিছু মানুষ মানসিক বা আধ্যাত্মিক শান্তি পেতে এই ধরনের সেবা নিচ্ছেন। কিন্তু তা কখনই সুনির্দিষ্ট রোগের একমাত্র চিকিৎসা হয়ে উঠতে পারবে না যদি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা দরকার হয়।
Q4: কীভাবে বুঝব যে তান্ত্রিক-কবিরাজ নির্ভরযোগ্য না?
A4: যদি তারা রোগ-বিজ্ঞান বা হাসপাতালে যাননি, অস্বাভাবিক দাবিতে টাকা নিচ্ছে, শুধুই মন্ত্র বা যাদুর ওপর নির্ভর করছে— এসব ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।
Q5: আইন কি বলছে এই বিষয়ে?
A5: বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, লিফলেট বা পোস্টার লাগিয়ে অনুমোদন ছাড়া প্রচারণা করা অপরাধ হতে পারে। Prothomalo

