তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে কি: বাংলাদেশের আইন, বাস্তবতা ও সচেতনতা

WhatsApp
Telegram
Facebook
Twitter
LinkedIn
তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে কি: বাংলাদেশের আইন, বাস্তবতা ও সচেতনতা

বাংলাদেশে এখনো অনেক স্থানে তান্ত্রিক কবিরাজদের চিকিৎসা জনপ্রিয়।
কেউ জ্বর, মানসিক অসুখ বা পারিবারিক সমস্যা নিয়েও তান্ত্রিক কবিরাজের কাছে যান।
কিন্তু প্রশ্ন হলো — তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে কি?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের আইন, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তব অবস্থা জানতে হবে।

তান্ত্রিক কবিরাজের কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে তান্ত্রিক কবিরাজরা নিজেদের “আধ্যাত্মিক চিকিৎসক” হিসেবে দাবি করে।
অনেকে দাবি করেন তারা জ্বিন তাড়াতে বা রোগ সারাতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেকেই এই সুযোগে মানুষকে প্রতারণা করে, অর্থ আদায় করে এবং কখনো কখনো শারীরিক ক্ষতি ঘটায়।
Read More: Banglapedia – Folk Healers in Bangladesh

বাংলাদেশে তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে কি

১. বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code) ১৮৬০:
ধারা ৪২০ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে কারো ক্ষতি করা অপরাধ।
যদি তান্ত্রিক কবিরাজ মিথ্যা চিকিৎসা বা অলৌকিক ক্ষমতার নাম করে মানুষকে প্রতারণা করে, তবে এই ধারা প্রযোজ্য হয়।

২. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯:
যে কোনো ভুয়া বা অপ্রমাণিত পণ্য বা চিকিৎসা প্রচার ভোক্তার অধিকারের লঙ্ঘন।
তান্ত্রিক কবিরাজদের ভুয়া চিকিৎসা বা প্রতারণামূলক প্রচারণা এই আইনে দণ্ডনীয়।

৩. মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট:
অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অবৈধ চিকিৎসা প্রদান শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যারা নিবন্ধিত চিকিৎসক নন, তাদের চিকিৎসা প্রদান করা নিষিদ্ধ।

৪. ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮:
যদি অনলাইনে বা সামাজিক মাধ্যমে তান্ত্রিক কবিরাজরা প্রতারণা করে, তাহলে এই আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

Source: Bangladesh Law Commission – Penal Code Overview

আইনের প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ

তান্ত্রিক কবিরাজদের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও তা সবসময় প্রয়োগ হয় না।
কারণ—

  • অনেক মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পায়
  • সামাজিক কুসংস্কার ও ভয় থেকে অনেকেই প্রতিবাদ করে না
  • স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তা পায় কিছু তান্ত্রিক

ফলে প্রতারণা বন্ধ না হয়ে বরং ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি ও এনজিও উদ্যোগ

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিও কুসংস্কার বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।
BRAC, ASK (Ain o Salish Kendra) ও Manusher Jonno Foundation নিয়মিত আইনি সচেতনতা কর্মসূচি করে।
Read More: Ain o Salish Kendra (ASK)

গণমাধ্যমেও সময় সময় “ভণ্ড তান্ত্রিক” বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
Source: The Daily Star – Fake Healers and Public Deception

কুসংস্কার ও প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা

আইন যতই কঠোর হোক, জনগণ সচেতন না হলে প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন।
শিক্ষা, যুক্তিবাদ, ও বিজ্ঞানমনস্কতা কুসংস্কার রোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
প্রতিটি পরিবারে আলোচনার মাধ্যমে ভণ্ড তান্ত্রিকদের প্রভাব কমানো সম্ভব।

Read More: UNICEF Bangladesh – Education for Awareness

তান্ত্রিক কবিরাজদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের উদাহরণ

বিভিন্ন সংবাদে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামীণ অঞ্চলে ভণ্ড তান্ত্রিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
কেউ কেউ প্রতারণা বা যৌন নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন।
তবে এই ধরনের অভিযান আরও নিয়মিত ও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

See News: Dhaka Tribune – Police Arrest Fake Healer

উপসংহার

বাংলাদেশে তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে, তবে প্রয়োগে ঘাটতি আছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
যে মুহূর্তে মানুষ প্রতারিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিনই তান্ত্রিক প্রতারণা বন্ধ হবে।
নিজেকে সচেতন রাখুন, সত্য ও বিজ্ঞানের পথে থাকুন।

FAQs (প্রশ্নোত্তর)

১. তান্ত্রিক কবিরাজের বিরুদ্ধে আইন আছে কি?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে প্রতারণা ও অবৈধ চিকিৎসার বিরুদ্ধে আইন রয়েছে যা তান্ত্রিক কবিরাজদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

২. ভণ্ড তান্ত্রিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কোথায় করা যায়?
স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা যায় অথবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া যায়।

৩. যদি কেউ তান্ত্রিক কবিরাজের চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কী করা উচিত?
আইনি পরামর্শ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত।

৪. তান্ত্রিক কবিরাজের চিকিৎসা কি বৈধ?
না, যদি তার চিকিৎসা নিবন্ধিত মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমোদন না পায় তবে তা অবৈধ।

৫. সরকার এ বিষয়ে কী করছে?
সরকার ও এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করছে।

বাহ্যিক তথ্যসূত্র:

Read Previous Or Next Post

Scroll to Top